দর্শন কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

দর্শন কী? / দর্শন কাকে বলে?

জীবনের গভীরতম জিজ্ঞাসা ও সত্যের সন্ধান। আমরা প্রতিনিয়ত চলি, ফিরি, কাজ করি—কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি আমাদের এই অস্তিত্বের মানে কী? এই মহাবিশ্ব কীভাবে সৃষ্টি হলো? সত্য আর মিথ্যার পার্থক্যই বা কী? এই ধরনের মৌলিক ও গভীর প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার নামই হলো দর্শন।

দর্শন কাকে বলে

দর্শন শব্দের অর্থ কী? (Etymological Meaning)

‘দর্শন’ শব্দটি ইংরেজিPhilosophy’ শব্দের প্রতিশব্দ। গ্রিক শব্দ ‘Philo’ (অনুরাগ বা ভালোবাসা) এবং ‘Sophia’ (জ্ঞান) থেকে এটি এসেছে। অর্থাৎ, আক্ষরিক অর্থে দর্শন মানে হলো ‘জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ’।

অন্যদিকে, বাংলা ‘দর্শন’ শব্দটি এসেছে ‘দৃশ’ ধাতু থেকে, যার অর্থ হলো দেখা। তবে এই দেখা মানে শুধু চোখের দেখা নয়, এটি হলো প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পরম সত্যকে উপলব্ধি করা।

দর্শনের সংজ্ঞা

সহজভাবে বলতে গেলে, জগৎ ও জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানই হলো দর্শন। দর্শনের কোনো একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন, কারণ এর পরিধি বিশাল। তবে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দর্শনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যেমন:

যৌক্তিক বিশ্লেষণ: জগত ও জীবনের মূল ভিত্তিগুলো নিয়ে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা করা।
দৃষ্টিভঙ্গি: জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে বিচার-বুদ্ধি দিয়ে দেখার একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি।
জিজ্ঞাসা: “আমি কে?”, “স্রষ্টা কে?”, “ন্যায়-অন্যায় কী?”—এই চিরন্তন প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা।
দর্শনের প্রধান শাখাগুলো
দর্শন কেবল আকাশ-কুসুম চিন্তা নয়, এটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল একটি বিষয়।

দর্শন শাখা

তত্ত্ববিদ্যা (Metaphysics): যা সত্তা, ঈশ্বর এবং মহাবিশ্বের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে।
জ্ঞানবিদ্যা (Epistemology): জ্ঞানের উৎস, সীমা এবং বৈধতা নিয়ে কাজ করে।
নীতিবিদ্যা (Ethics): মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ এবং নৈতিকতা নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে।
তর্কবিদ্যা (Logic): সঠিক যুক্তি ও চিন্তার নিয়মাবলী শেখায়।

কেন দর্শন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকে মনে করেন দর্শন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু আসলে:

এটি আমাদের যৌক্তিক চিন্তা করতে শেখায়।
গোঁড়ামি ও কুসংস্কার মুক্ত হয়ে উন্মুক্ত মন তৈরি করে।
জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
“বিস্ময় থেকেই দর্শনের জন্ম।” — এরিস্টটল

উপসংহার

দর্শন মানে কেবল জটিল কিছু শব্দ বা তত্ত্ব নয়; দর্শন হলো জীবনকে জানার এক নিরন্তর যাত্রা। আমরা যখনই কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলি এবং তার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করি, তখনই আমরা একজন ক্ষুদে দার্শনিক হয়ে উঠি। জগতকে জানার এই পিপাসাই দর্শনকে যুগ যুগ ধরে টিকিয়ে রেখেছে।

আরো জানুন……

রাষ্ট্রবিজ্ঞান কাকে বলে?

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *