রাষ্ট্রবিজ্ঞান কাকে বলে?
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কী?/ রাষ্ট্রবিজ্ঞান কাকে বলে?
মানুষ সামাজিক জীব। আর এই সামাজিকভাবে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা, যাকে আমরা বলি ‘রাষ্ট্র’। কিন্তু এই রাষ্ট্র কীভাবে চলে? সরকার কীভাবে গঠিত হয়? আমাদের অধিকারগুলো কী কী? এই সবকিছুর উত্তর যে শাস্ত্র দেয়, তাই হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা (What is Political Science?)
রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা যা রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতি এবং মানুষের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে আলোচনা করে।
সহজ কথায়, রাষ্ট্রের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং সরকারের গঠন ও নীতি নিয়ে যে বিজ্ঞান চর্চা করা হয়, তাকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উৎপত্তি
‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ‘Political Science’। এটি গ্রিক শব্দ ‘Polis’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘নগর-রাষ্ট্র’ (City-State)। প্রাচীন গ্রিসে ছোট ছোট নগরকে কেন্দ্র করে যে শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা থেকেই এই বিষয়ের উৎপত্তি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক
বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলকে (Aristotle) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Politics’-এ প্রথমবার রাজনীতিকে একটি বিজ্ঞানসম্মত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার মতে—
“মানুষ স্বভাবতই রাজনৈতিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু, না হয় অন্য কিছু।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ
- রাষ্ট্র ও সরকার: রাষ্ট্রের উপাদান (জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব) এবং বিভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা (গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি) নিয়ে এটি আলোচনা করে।
- রাজনৈতিক তত্ত্ব: স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো ব্যাখ্যা করে।
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন: জাতিসংঘ) নিয়ে কাজ করে।
- জনপ্রশাসন ও নীতি: সরকারি নীতি কীভাবে তৈরি হয় এবং তা জনগণের কল্যাণে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা বিশ্লেষণ করে।
কেন আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান জানা প্রয়োজন?
- নাগরিক সচেতনতা: নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানা যায়।
- নেতৃত্বের গুণাবলি: শাসনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বোঝা যায়।
- বিশ্ব রাজনীতি: বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক সংকটগুলো বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের জন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

